
ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার ভোর ৬টা ০৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও বহুমাত্রিক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। লিভার সিরোসিস, কিডনি বিকলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ফুসফুসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক মাস ধরেই তিনি নিবিড় চিকিৎসার আওতায় ছিলেন। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়, সেখানেই ভোরে তার জীবনাবসান ঘটে।
বিএনপি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়,
“জাতীয় নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ ফজরের নামাজের পরপরই ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।”
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট পুত্রের স্ত্রী শার্মিলা রহমান সিঁথি, ভাই শামীম এসকান্দার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপি সাতদিনের শোক ঘোষণা করেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শোকবার্তা আসছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও তাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করছেন অনেকেই।
0 মন্তব্যসমূহ